All books

সহিহ ফাযায়েলে আমল (০ টি হাদীস)

ফাযায়িলে কালেমা ১৪ - ৭২

পরিচ্ছেদঃ

শির্‌ক না করার ফাযীলাত

৬৪

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৬৪


মু’আয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) পিছনে ঊফাইর নামক গাধার পিঠে সওয়ার ছিলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) আমাকে বললেন : হে মু’আয! তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর কি হক রয়েছে এবং আল্লাহর উপর বান্দার কি হক রয়েছে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি (সাঃ) বললেন : বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে- তারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার হচ্ছে, যে বান্দা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না তিনি তাকে আযাব দিবেন না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকদেরকে এ সুসংবাদ জানিয়ে দিবো না? তিনি (সাঃ) বললেন : তাদেরকে এ সুসংবাদ দিও না। কেননা তারা এর উপর নির্ভর করে ‘আমল ছেড়ে দিবে। [১]

[১] হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/২৬৪৪

৬৫

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৬৫


জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রাসূল (সাঃ) বললেন দুটি জিনিস ওয়াজিব হয়ে গেছে। এক ব্যক্তি এসে বললো, যে আল্লাহর রাসূল! কোন দুটি জিনিস ওয়াজিব হয়ে গেছে? তিনি (সাঃ) বললেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুতে শরীক না করে মারা গেছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করে মারা গেছে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। [১]

[১] হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/২৭৯

৬৬

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৬৬


‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে মি’রাজ করানো হয় তখন তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছেন যা সপ্তম আকাশে রয়েছে। যে জিনিস উপরে উঠে তা এখান পর্যন্ত পৌঁছে, তারপর এখান থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়। আর যে জিনিস অবতরণ করে তা এখান পর্যন্ত অবতারিত, তারপর এখান থেকে গ্রহণ করা হয়। ঐ গাছের উপর সোনার ফড়িং ছেয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত, এবং সূরাহ্ বাক্বারাহর শেষের দুই আয়াত দেয়া হয়। এবং এটাও দেয়া হয় যে, তার উম্মাতের মদ্যে যারা শির্‌ক করবে না তাদের কবীরাহ গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে। [১]

[১] হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৪৪৯

৬৭

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৬৭


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। যে সব অপরাধী আল্লাহর সাথে শির্‌ক করেনি তাদেরকে ক্ষমা করা হয়। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি সম্পর্কে (আল্লাহ্ বলেন) : এদেরকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে, এদেরকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে, এদেরকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে। [১]

[১] হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬৭০৯

৬৮

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৬৮


আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : আল্লাহ্ তা’আলা বলেন : কেউ একটি নেক ‘আমল করলে এর বিনিময়ে তাকে এর দশগুণ বা আরো অধিক দিবো। কেউ যদি একটি গুনাহ করে তাহলে এর বিনিময়ে কেবল একটি গুনাহ (লিখা) হবে অথবা আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো। আর কেউ যদি আমার কাছে পৃথিবীর সমান গুনাহসহ উপস্থিত হয় এবং আমার সাথে কাউকে শরীক না করে থাকে তাহলে আমিও ঠিক পৃথিবীর সমান ক্ষমা নিয়ে তার কাছে এগিয়ে যাবো। [১]

[১] হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/২১৩৬০

৬৯

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৬৯


‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এরূপ অবস্থায় সাক্ষ্যাৎ করলো যে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করেনি, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার অন্যান্য পাপ তার কোন ক্ষতি করবে না। যেমন কোন ব্যক্তি শির্‌ক করে তাঁর সাথে সাক্ষ্যাৎ করলে সে জাহান্নামে যাবে এবং তার অন্যান্য সাওয়াব তার কোন উপকারে আসবে না। [১]

[১] হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/৬৫৮৬

৭০

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৭০


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : প্রত্যেক নাবীর বিশেষ একটি দু’আ আছে যা কবুল করা হবে। প্রত্যেক নাবীই তাঁর যে দু’আ আগে ভাগে (দুনিয়াতেই) করে ফেলেছেন। আর আমি আমার সে দু’আ ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতের শাফা’আতের জন্য (দুনিয়াতে) মুলতবী রেখেছি। আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি শির্‌ক না করে মৃত্যুবরণ করবে, ইনশাআল্লাহ্ সে তা লাভ করবে। [১]

[১] হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫১২

৭১

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৭১


আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা এক বেদুইন নাবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললো : আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো। তিনি (সাঃ) বললেন : আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবে না। ফরয সলাত ক্বায়িম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমাযানের সাওম পালন করবে। একথা শুনে লোকটি বললো, সেই সত্ত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি এর চেয়ে বেশিও করবো না এবং কমও করবো না। অতঃপর লোকটি যখন চলে যেতে লাগলে নাবী (সাঃ) বললেন, কেউ কোন জান্নাতী লোক দেখে আনন্দিত হতে চাইলে সে যেন এই লোকটিকে দেখে। [১]

[১] হাদীস সহীহ :সহীহুল বুখারী হা/১৩১০

৭২

সহিহ ফাযায়েলে আমল

অধ্যায় : ফাযায়িলে কালেমা

হাদীস নং : ৭২


বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

উম্মাতকে শির্‌ক বিবর্জিত ‘ইবাদাত শিক্ষার দায়িত্ব দিয়েই মহান আল্লাহ্ নাবী (সাঃ)- কে নাবী করে পাঠিয়েছেন। যেমন, ‘আমর ইবনু ‘আবাসাহ আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমি আমার সম্প্রদায়ের ইলাহগুলো থেকে বিমুখ ছিলাম। একদা আমি নাবী (সাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম যে, তিনি আত্মগোপনে আছেন। আমি গোপনে খোঁজ নিয়ে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি তাঁকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন : নাবী। আমি বললাম, নাবী কি? তিনি বললেন : আল্লাহর রাসূল। আমি বললাম, আপনাকে কে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন : মহান আল্লাহ। আমি বললাম, আপনাকে কি দিয়ে প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন : “এ আদেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা হবে, রক্ত সংরক্ষণ করতে হবে, রাস্তা নিরাপদ করতে হবে, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলতে হবে এবং এক আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না।” আমি বললাম, আপনাকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাতো অত্যন্ত ভাল। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আপনার উপর ঈমান এনেছি এবং আপনাকে সত্য বলে ঘোষণা করছি। আপনি বলুন, আমি কি আপনার সাথে অবস্থান করবো? তিনি বললেন : তুমি দেখছো যে, আমি যা নিয়ে আগমন করেছি তা লোকেরা অপছন্দ করেছে। কাজেই তুমি তোমার পরিবারের কাছেই থাকো। অতঃপর যখন তুমি আমার সম্পর্কে জানবে যে, আমি আমার অবস্থান থেকে বেরিয়েছি তখন আমার কাছে এসো।”

আহমদ হা/১৭০১৬- ইমাম যাহাবী বলেন : সহীহ